bla-initial-800px
Thingumajig

ভালো লাগে আনিমে

 
 

আনিমে বা জাপানি অ্যানিমেশন সম্বন্ধে ধারণা হয় আমার এক কলেজ বন্ধু– প্রান্তের হাত ধরে। সবেমাত্র কম্পিউটার কিনেছি, কম্পিউটারে নতুন কিছু গেমস ইন্সটল করার জন্য প্রান্তকে বাসায় আসতে বললাম। সে গেমসের সাথে কিছু আনিমে নিয়ে আসল আমাকে দেয়ার জন্য। বলল এগুলো একবার হলেও চালিয়ে দেখতে, যদি পছন্দ হয় তবে আরো এনে দিবে। আমার প্রথম দেখা আনিমে ছিল Initial D। এত ভালো লাগে যে আমার আনিমের নেশা ধরে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এর কিছুদিন পরে পড়াশুনা করতে আমাকে চলে যেতে হয় সিলেটে। বন্ধু প্রান্তই ছিল আনিমের জন্য আমার একমাত্র ভরসা। এরপর আমি ইন্টারনেটের সংযোগ নিলাম, প্রান্তর সাথে যোগাযোগ করলাম। প্রান্তই তখন আমাকে একটা ফোরাম সাইটের খোঁজ দিল, যেখানে বাংলাদেশিরা আনিমে নিয়ে আলোচনা করে এবং মিটিং আয়োজন করে। সেই সাইটের নাম ছিল টিমওটাকু যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে হয় মেইযসিটি। মেইযসিটি আমার আনিমে যাত্রাতে এক অনবদ্য অবদান রেখেছে। মেইযসিটির মাধ্যমে আমি পেয়েছি এক নতুন পরিবার ও কিছু অত্যন্ত ঘনিষ্ট বন্ধু। এর মধ্যে অন্যতম এবং প্রথম দিকের কয়েকজন হচ্ছে– ওয়াসিও, তৌফিক ভাই, আহেলী, সারাহ, বৃষ্টি, আনাস প্রমুখ। মেইযসিটি নিয়ে আমার উৎসাহের কমতি ছিল না কখনই। ফোরামে আমি নিয়মিত ছিলাম, প্রচুর পোস্ট করতাম। প্রতিদানস্বরূপ আমাকে ফোরামের মডারেটর পদে উন্নীত করা হয়। সিলেট থেকে ঢাকায় যখনই আমি আসতাম, মেইযসিটির মিটিংগুলোতে অংশগ্রহণ করতাম। তখন আরো কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ এবং পরে সখ্যতা হল। এর মধ্যে অন্যতম হল– জান্নাত, আকিব, মন্টি ভাই (অনেক পরে জানতে পারি যে তিনিই মেইযসিটির প্রতিষ্ঠাতা), তন্ময় (পরে জানতে পারি যে সে মেইযসিটি’র ফেইসবুক গ্রুপটি তৈরি করেছে), শাদাব (পরে সে তার নিজের গ্রুপ খুলে)। সকলের একটাই স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশে আনিমে সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়া। তার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি বড়মাপের অনুষ্ঠান আয়োজন করার। আমরা সাহস করে নিজেদের উদ্যোগেই আয়োজন করি প্রথম মেইযকন। এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশে কমিক্স ও কার্টুন সংস্কৃতি নিয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজনের পালা। আমাদের কামনা, এভাবেই মেইযসিটি তার অদম্য স্পৃহা নিয়ে এগিয়ে যাবে আগামীর পথে এবং বাংলাদেশের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আনিমে কমিউনিটি হিসেবে সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে।

নাজমুল হাসান
২০১৪